
কক্সবাজারে এনসিপির পাঁচ নেতার আকস্মিক উপস্থিতির চারদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে গোপন বৈঠকের গুজব, হোটেল পরিবর্তন, ও গোয়েন্দা নজরদারি—সব মিলিয়ে সফরটি এখন দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক বিষয়টি।
২০২৫ সালের ৫ আগস্ট—যেখানে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উদযাপন হচ্ছিল—ঠিক সে দিনই কক্সবাজারে পা রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাঁচজন কেন্দ্রীয় ন
সফরটি শুরু হয় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে একটি বিমানযাত্রায়। বাংলাদেশ বিমানের বিজি-৪৩৩ ফ্লাইটে করে পৌঁছান দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ডা. তাসনিম জারা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ। বিমানবন্দরে কোনো ভিআইপি সুবিধা না নিয়ে তারা সাধারণ গেট দিয়ে বের হন এবং সোজা চলে যান ইনানীর ‘সী পার্ল রিসোর্টে’ (রয়েল টিউলিপ)।
গোপন বৈঠকের গুঞ্জন ও গোয়েন্দা তৎপরতা
নেতাদের হোটেল চয়েস ও আচরণ ঘিরে দাঁড়িয়ে সন্দেহ দানা বাঁধে প্রথম থেকেই। বিশেষ করে পিটার হাসের উপস্থিতি ও বৈঠকের গুজব ছড়িয়ে পড়লে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে।
রয়েল টিউলিপের ভেতর ও আশপাশে ডিজিএফআই ও এনএসআইসহ অনেক গোয়েন্দা ইউনিট সাদা পোশাকে অবস্থান নেয়। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। কিন্তু হোটেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, সেখানে কোনো বিদেশি প্রবেশ করেননি বা কোনো বৈঠকও হয়নি।
এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, "উর্ধ্বতন নির্দেশে আমরা এনসিপি নেতাদের প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছি। তবে এখন পর্যন্ত গোপন বৈঠকের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি৷"
হোটেল পরিবর্তন ও প্রশাসনিক তৎপরতা
পরদিন বুধবার দুপুরের দিকে হঠাৎ করে সী পার্ল রিসোর্ট ত্যাগ করেন এনসিপির নেতারা। কলাতলীর একটি রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার শেষ করে বিকেলে তারা শহরের অভিজাত হোটেল 'প্রাসাদ প্যারাডাইসে' ওঠেন। হোটেল পরিবর্তনের এই আকস্মিকতা প্রশাসনের নজর এড়া�
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোনো ধরনের প্রটোকল না চাইলেও এনসিপি নেতাদের ঘিরে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। তাদের অবস্থান বিবেচনায় হোটেল এলাকাজুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
দলের অভ্যন্তরীণ অস্বস্তি ও কারণ দর্শানোর নোটিশ
নেতাদের এই সফর দলের ভেতরেও অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দিনে কক্সবাজার ভ্রমণ নিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঁচ নেতাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, "রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনে দলীয় সিদ্ধান্ত বা অনুমতি ব্যতিরেকে ব্যক্তিগত সফরে যাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।"
স্থানীয় রাজনীতিবিদদের প্রতিক্রিয়া
এ সফর সম্বন্ধে কক্সবাজারের স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও খানিকটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, "নানা গুজব শোনা গেলেও কিছু যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তাই মন্তব্য করাও ঠিক হবে না।"
উপসংহার
সফরের দ্বিতীয় দিন পেরিয়ে গেলেও এনসিপি নেতাদের কক্সবাজার যাত্রার প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। গোপন বৈঠকের গুঞ্জন অস্বীকার করা হলেও গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে। পুরো পরিস্থিতিকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে একধরনের ধোঁয়াশা। সকলের নজর এখন 'প্রাসাদ প্যারাডাইস'-এর দিকে—পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। agn/এটি গ্লো নি